বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষা আর শুধু নিজের দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রযুক্তির উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রসার এবং বৈশ্বিক চাকরির বাজারের কারণে বিদেশে পড়াশোনা এখন লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। বাংলাদেশ থেকেও প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্নাতক (Bachelor), স্নাতকোত্তর (Master's) এবং পিএইচডি (PhD) করতে যান। কেউ উন্নত মানের শিক্ষা অর্জনের জন্য, কেউ গবেষণার সুযোগের জন্য, আবার কেউ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান।
তবে শুধু ইচ্ছা থাকলেই বিদেশে পড়তে যাওয়া যায় না। সঠিক দেশ নির্বাচন, উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে বের করা, পছন্দের বিষয় নির্বাচন, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, আর্থিক পরিকল্পনা, আবেদন প্রক্রিয়া এবং ভিসা—সবকিছু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। ভুল তথ্য বা অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত আপনার সময়, অর্থ এবং সুযোগ—তিনটিই নষ্ট করতে পারে।
এই গাইডে আমরা এমন সব বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব, যা একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর বিদেশে পড়াশোনার পুরো যাত্রাকে সহজ করতে সাহায্য করবে।
বিদেশে পড়াশোনা শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়; এটি নিজের ব্যক্তিগত, একাডেমিক এবং পেশাগত উন্নয়নের একটি বড় সুযোগ। আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়লে আপনি এমন পরিবেশে পড়াশোনা করবেন যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, ব্যবহারিক শিক্ষা এবং বিশ্বমানের শিক্ষকদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ থাকবে।
বিদেশে পড়াশোনার প্রধান সুবিধাগুলো হলো—
বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ল্যাব, গবেষণাগার, ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। এতে শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বাস্তব দক্ষতাও অর্জন করা যায়।
উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত ডিগ্রি বিশ্বের অনেক দেশে গ্রহণযোগ্য। ফলে চাকরির সুযোগও অনেক বেড়ে যায়।
যারা গবেষণা করতে চান, তাদের জন্য বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে গবেষণার সুযোগ অনেক বেশি।
ইংরেজিভাষী বা বহুজাতিক পরিবেশে বসবাস ও পড়াশোনা করলে আপনার যোগাযোগ দক্ষতা অনেক উন্নত হবে, যা ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারে বড় ভূমিকা রাখবে।
অনেক দেশেই পড়াশোনা শেষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ করার সুযোগ থাকে। এই সময়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করে অনেক শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি পান।
বিদেশে একা থাকা, নিজের কাজ নিজে করা, নতুন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে মিশে চলা এবং সমস্যার সমাধান করার অভিজ্ঞতা আপনাকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীন করে তোলে।
অনেক শিক্ষার্থী শুধু অন্যকে দেখে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাস্তবে বিদেশে পড়াশোনা একটি বড় বিনিয়োগ। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো ভালোভাবে বিবেচনা করা উচিত।
নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করুন—
আমি কি শুধু ডিগ্রি নিতে চাই?
নাকি গবেষণা করতে চাই?
পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরব, নাকি বিদেশে চাকরি করতে চাই?
ভবিষ্যতে নিজের ব্যবসা করতে চাই, নাকি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চাই?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই আপনাকে সঠিক দেশ ও বিষয় নির্বাচন করতে সাহায্য করবে।
সব দেশের খরচ এক নয়।
যেমন—
কিছু দেশে টিউশন ফি তুলনামূলক কম হলেও জীবনযাত্রার খরচ বেশি।
আবার কিছু দেশে টিউশন ফি বেশি হলেও স্কলারশিপের সুযোগ ভালো।
কোথাও পার্ট-টাইম কাজ করে কিছু খরচ বহন করা সম্ভব, কোথাও নিয়ম ভিন্ন।
তাই আবেদন করার আগে নিজের এবং পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনা পরিষ্কার করুন।
বিদেশে সাধারণত তিন ধরনের উচ্চশিক্ষা সবচেয়ে জনপ্রিয়।
যারা এইচএসসি বা সমমান শেষ করেছেন, তারা স্নাতক পর্যায়ে আবেদন করতে পারেন। সাধারণত ৩–৪ বছর মেয়াদি।
যাদের স্নাতক সম্পন্ন হয়েছে, তারা স্নাতকোত্তর করতে পারেন। অধিকাংশ দেশে ১–২ বছর সময় লাগে।
যারা গবেষণামূলক উচ্চশিক্ষা নিতে চান, তাদের জন্য। অনেক ক্ষেত্রে গবেষণা অনুদান বা স্টাইপেন্ডের সুযোগও থাকে।
সব শিক্ষার্থীর জন্য একই দেশ উপযুক্ত নয়। দেশ নির্বাচন করার সময় নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করুন—
শিক্ষার মান
বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং
টিউশন ফি
জীবনযাত্রার খরচ
পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ
পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ
নিরাপত্তা
আবহাওয়া
ভাষা
স্কলারশিপের সুযোগ
এই বিষয়গুলোর ভারসাম্য বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
শুধু চাকরির চাহিদা দেখে বিষয় নির্বাচন করা ঠিক নয়। আপনার আগ্রহ, দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে বিষয়ের মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেসব বিষয়ের চাহিদা বেশি—
Computer Science
Software Engineering
Artificial Intelligence (AI)
Data Science
Cyber Security
Cloud Computing
Information Technology (IT)
Nursing
Medicine
Pharmacy
Business Administration
Finance
Accounting
Civil Engineering
Mechanical Engineering
Electrical & Electronic Engineering
Architecture
Renewable Energy
Biotechnology
Environmental Science
বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিনির্ভর খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তাই প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রকৌশলভিত্তিক বিষয়গুলো আগামী বছরগুলোতেও শক্তিশালী ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরি করবে।
বিদেশে পড়াশোনা একটি বড় সিদ্ধান্ত। তাই তাড়াহুড়ো না করে আগে নিজের লক্ষ্য, বাজেট, পছন্দের বিষয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরিষ্কার করুন। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ অনেক সহজ হয়ে যায়।
কানাডা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশগুলোর একটি। এর প্রধান কারণ হলো উচ্চমানের শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, বহুসাংস্কৃতিক সমাজ এবং পড়াশোনা শেষে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কাজের সুযোগ। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
University of Toronto
University of British Columbia (UBC)
McGill University
University of Alberta
University of Waterloo
McMaster University
Western University
York University
Computer Science
Software Engineering
Artificial Intelligence (AI)
Data Science
Cyber Security
Business Administration
Nursing
Civil Engineering
Mechanical Engineering
Bachelor: বছরে প্রায় CAD 18,000–45,000
Master's: বছরে প্রায় CAD 17,000–40,000
প্রায় CAD 1,200–2,000 (শহর ও জীবনযাত্রার ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে)।
বিশ্বমানের শিক্ষা
গবেষণার ভালো সুযোগ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ
দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদা
পড়াশোনার পর কাজের সুযোগ
অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি জনপ্রিয় গন্তব্য। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা, উদ্ভাবন এবং ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য পরিচিত। অনেক কোর্সে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও থাকে।
University of Melbourne
Monash University
University of Sydney
Australian National University
UNSW Sydney
University of Queensland
Information Technology
Engineering
Accounting
Public Health
Agriculture
Business
Education
Bachelor: AUD 20,000–45,000 প্রতি বছর
Master's: AUD 22,000–50,000 প্রতি বছর
প্রায় AUD 1,500–2,500
আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা
আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা
উন্নত জীবনযাত্রা
বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ
যারা কম সময়ে আন্তর্জাতিক ডিগ্রি অর্জন করতে চান, তাদের জন্য যুক্তরাজ্য একটি দারুণ বিকল্প। অধিকাংশ Master's কোর্স মাত্র এক বছরে শেষ করা যায়।
University of Oxford
University of Cambridge
Imperial College London
University College London (UCL)
University of Manchester
University of Birmingham
Business
Law
Finance
Computer Science
Artificial Intelligence
Medicine
Engineering
Bachelor: GBP 15,000–35,000 প্রতি বছর
Master's: GBP 16,000–40,000 প্রতি বছর
লন্ডনে তুলনামূলক বেশি, অন্য শহরে কিছুটা কম।
স্বল্প সময়ে মাস্টার্স
বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়
গবেষণার সুযোগ
আন্তর্জাতিক চাকরির সম্ভাবনা
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি। বিশ্বের অনেক সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এখানেই অবস্থিত।
Harvard University
Stanford University
Massachusetts Institute of Technology (MIT)
Princeton University
Yale University
Columbia University
Artificial Intelligence
Computer Science
Robotics
Business Administration
Medicine
Aerospace Engineering
Biotechnology
Bachelor: USD 20,000–60,000 প্রতি বছর
Master's: USD 20,000–70,000 প্রতি বছর
শহরভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। সাধারণভাবে প্রতি মাসে USD 1,200–3,000 পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
বিশ্বের সেরা গবেষণা সুবিধা
উচ্চমানের শিক্ষা
বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ
শক্তিশালী অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক
কম বা তুলনামূলক স্বল্প টিউশন ফি এবং উন্নত প্রকৌশল শিক্ষার জন্য জার্মানি বিখ্যাত। বিশেষ করে STEM বিষয়ে আগ্রহীদের জন্য এটি অন্যতম সেরা গন্তব্য।
Technical University of Munich
LMU Munich
Heidelberg University
RWTH Aachen University
University of Freiburg
Mechanical Engineering
Electrical Engineering
Automobile Engineering
Robotics
Computer Science
অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি খুব কম বা নির্দিষ্ট কিছু প্রোগ্রামে নেই। তবে সেমিস্টার ফি, স্বাস্থ্যবীমা এবং জীবনযাত্রার খরচ বহন করতে হয়।
প্রায় EUR 900–1,300 প্রতি মাস।
ইতালি তুলনামূলক কম খরচে ইউরোপে পড়াশোনার একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। এখানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ রয়েছে।
University of Bologna
Sapienza University of Rome
Politecnico di Milano
University of Padua
Architecture
Fashion Design
Engineering
Business
Economics
তুলনামূলক কম খরচ
আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ
সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতি
ইউরোপের অন্যান্য দেশে ভ্রমণের সুযোগ
যারা তুলনামূলক কম খরচে আন্তর্জাতিক ডিগ্রি অর্জন করতে চান, তাদের জন্য মালয়েশিয়া একটি ভালো বিকল্প।
University of Malaya
Universiti Kebangsaan Malaysia
Taylor's University
Sunway University
Business
IT
Hospitality Management
Engineering
Medicine
অন্যান্য জনপ্রিয় গন্তব্যের তুলনায় টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচ সাধারণত কম।
আগামী দশকে যেসব বিষয়ে দক্ষ জনবলের চাহিদা বেশি থাকবে—
Artificial Intelligence (AI)
Data Science
Machine Learning
Cyber Security
Cloud Computing
Software Engineering
Nursing
Healthcare
Renewable Energy
Biotechnology
Civil Engineering
Finance
Digital Marketing
কম খরচে ইউরোপে পড়তে চাইলে: জার্মানি, ইতালি
উচ্চমানের গবেষণা করতে চাইলে: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা
দ্রুত মাস্টার্স শেষ করতে চাইলে: যুক্তরাজ্য
উন্নত জীবনযাত্রা ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ চাইলে: অস্ট্রেলিয়া
তুলনামূলক কম বাজেটে আন্তর্জাতিক ডিগ্রি চাইলে: মালয়েশিয়া
এই দেশগুলোর মধ্যে কোনটি আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে, তা নির্ভর করবে আপনার বাজেট, একাডেমিক ফলাফল, পছন্দের বিষয়, ভাষাগত দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর। তাই আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ ভর্তি শর্ত, কোর্সের তথ্য এবং স্কলারশিপের সুযোগ যাচাই করা উচিত
অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন বিদেশে পড়াশোনার আবেদন খুব কঠিন। বাস্তবে সঠিক পরিকল্পনা থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজে সম্পন্ন করা যায়।
প্রথমেই ঠিক করুন আপনি কোন দেশে পড়তে চান। এরপর আপনার পছন্দের বিষয় অনুযায়ী ৫–১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করুন।
বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করার সময় খেয়াল রাখুন—
বিশ্ব র্যাঙ্কিং
টিউশন ফি
স্কলারশিপ
কোর্সের মান
চাকরির সুযোগ
শহরের জীবনযাত্রার খরচ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সুবিধা
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে Admission Requirements থাকে।
সাধারণত প্রয়োজন হয়—
SSC ও HSC অথবা Bachelor-এর সনদ
Transcript
Passport
ইংরেজি ভাষার পরীক্ষার ফলাফল
Statement of Purpose (SOP)
Recommendation Letter (LOR)
CV/Resume (বিশেষ করে Master's ও PhD-এর জন্য)
বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় নিচের যেকোনো একটি গ্রহণ করে—
IELTS Academic
TOEFL iBT
PTE Academic
Duolingo English Test (অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে)
সর্বদা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ভর্তি শর্ত দেখে নিশ্চিত হবেন কোন পরীক্ষার স্কোর গ্রহণযোগ্য।
SOP হলো এমন একটি লেখা যেখানে আপনি ব্যাখ্যা করবেন—
কেন এই বিষয় পড়তে চান
কেন এই বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিয়েছেন
আপনার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কী
কেন আপনাকে ভর্তি করা উচিত
একটি ভালো SOP অনেক সময় ভর্তি ও স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে আবেদন করা যায়।
আবেদনের সময়—
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট PDF আকারে আপলোড করুন।
আবেদন ফি (যদি থাকে) পরিশোধ করুন।
আবেদন জমা দেওয়ার পর নিয়মিত ইমেইল পর্যবেক্ষণ করুন।
বেশিরভাগ দেশে সাধারণত ২–৩টি Intake থাকে।
সাধারণত আগস্ট বা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়। এটি সবচেয়ে বড় Intake এবং অধিকাংশ কোর্স এই সময়ে চালু হয়।
সাধারণত জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়। অনেক জনপ্রিয় কোর্স এ সময়েও পাওয়া যায়।
কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে মে বা জুনে সীমিত সংখ্যক কোর্সের জন্য এই Intake থাকে।
কোর্স শুরু হওয়ার অন্তত ৬–১২ মাস আগে প্রস্তুতি শুরু করা ভালো। এতে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ভাষা পরীক্ষা, কাগজপত্র প্রস্তুত এবং ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।
দেশভেদে কিছু পার্থক্য থাকলেও সাধারণত প্রয়োজন হয়—
বৈধ পাসপোর্ট
বিশ্ববিদ্যালয়ের Offer Letter
Confirmation of Enrollment (যদি প্রযোজ্য)
টিউশন ফি পরিশোধের প্রমাণ (যেখানে প্রয়োজন)
ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ
একাডেমিক সার্টিফিকেট
ট্রান্সক্রিপ্ট
ইংরেজি ভাষার পরীক্ষার ফলাফল
মেডিকেল রিপোর্ট (দেশভেদে)
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স (যদি প্রয়োজন হয়)
পাসপোর্ট সাইজ ছবি
নিচের তথ্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য দেখে নিন।
কানাডা: স্টাডি পারমিট আবেদন ফি প্রায় CAD 150, বায়োমেট্রিক ফি CAD 85।
যুক্তরাজ্য: স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন ফি £558 এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে Immigration Health Surcharge (IHS) আলাদাভাবে দিতে হয়।
অস্ট্রেলিয়া: Student Visa (Subclass 500)-এর বেস আবেদন ফি ২০২৬ সালে AUD 2,000 (কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হতে পারে)।
জার্মানি, ইতালি ও মালয়েশার ক্ষেত্রে ভিসা ফি এবং প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করা উচিত।
বেশিরভাগ দেশই নিশ্চিত হতে চায় যে শিক্ষার্থী পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ বহন করতে সক্ষম।
তাই ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে নিচের যেকোনোটি লাগতে পারে—
নিজের ব্যাংক হিসাব
বাবা-মায়ের ব্যাংক হিসাব
স্পন্সরের আর্থিক নথি
শিক্ষা ঋণের অনুমোদনপত্র (যদি প্রযোজ্য)
কিছু দেশে ভিসা আবেদনের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হতে পারে। আবার কিছু দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবীমা নেওয়াও বাধ্যতামূলক। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম জেনে নিন।
অনেক দেশেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজ করতে পারেন।
জনপ্রিয় পার্ট-টাইম কাজ—
রেস্টুরেন্ট
সুপারশপ
ক্যাফে
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
কাস্টমার সার্ভিস
ওয়্যারহাউস
ডেলিভারি
টিউশনি
তবে ভিসার শর্ত অনুযায়ী কত ঘণ্টা কাজ করা যাবে, তা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
অনেক দেশে পড়াশোনা শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ থাকে। এই সময়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করলে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে নিয়ম দেশভেদে ভিন্ন এবং সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়।
GPA ভালো রাখুন।
শক্তিশালী SOP লিখুন।
ভালো ইংরেজি স্কোর অর্জন করুন।
নির্ধারিত সময়ের আগেই আবেদন করুন।
একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করুন।
সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্কলারশিপ খুঁজুন।
পাসপোর্টের মেয়াদ পরীক্ষা করুন।
সব গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টের একাধিক কপি রাখুন।
আন্তর্জাতিক ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের ব্যবস্থা করুন।
থাকার জায়গা আগে থেকেই নিশ্চিত করুন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের Orientation সম্পর্কে জেনে নিন।
জরুরি যোগাযোগ নম্বর সংরক্ষণ করুন।
শেষ সময়ে আবেদন করা।
ভুল তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করা।
SOP অন্যের কাছ থেকে কপি করা।
আর্থিক পরিকল্পনা না করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নির্দেশনা না পড়া।
ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুতি না নেওয়া।
সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় TOEFL, PTE বা Duolingo-ও গ্রহণ করে।
হ্যাঁ। অনেক শিক্ষার্থী নিজস্ব অর্থায়ন বা শিক্ষা ঋণের মাধ্যমে পড়াশোনা করেন।
অনেক দেশে নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ রয়েছে।
সাধারণভাবে কোর্স শুরু হওয়ার ৬–১২ মাস আগে প্রস্তুতি শুরু করা ভালো।