ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৬: বাংলাদেশিদের আবেদন করার নিয়ম, খরচ, কাগজপত্র ও সম্পূর্ণ গাইড

ভ্রমণ • ২০২৬ জুলাই ২

ভারত আবার চালু করলো বাংলাদেশিদের ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৬: আবেদন করার নিয়ম, খরচ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও A to Z সম্পূর্ণ গাইড

ভূমিকা

ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৬

ভারত ভ্রমণ সবসময়ই বাংলাদেশিদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতিবছর লাখ লাখ বাংলাদেশি চিকিৎসা, পর্যটন, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা, শিক্ষা এবং ধর্মীয় ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ভারতে যান। তবে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন কারণে ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম সীমিত ছিল। অবশেষে সুখবর এসেছে—ভারত সরকার আবারও বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা (Tourist Visa) চালু করেছে।

যারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। এখন আবার নিয়মিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করে ভারত ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া যাবে।

এই গাইডে আমরা বিস্তারিত জানবো—


ভারত আবার কবে থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে?

ভারতের হাইকমিশন ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পুনরায় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে নিচের পাঁচটি IVAC (Indian Visa Application Centre) থেকে—

পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কেন্দ্র থেকে সেবা সম্প্রসারণ করা হতে পারে।


কারা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন?

বাংলাদেশের বৈধ পাসপোর্টধারী যেকোনো নাগরিক, যাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য পর্যটন, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ বা ব্যক্তিগত সফর, তারা ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তবে এই ভিসা ব্যবহার করে—

এটি শুধুমাত্র অস্থায়ী ভ্রমণের জন্য।


ভারত ট্যুরিস্ট ভিসার সুবিধা

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা থাকলে আপনি—


কোথায় আবেদন করবেন?

ভারতের ভিসার আবেদন সম্পূর্ণ দুই ধাপে হয়।

ধাপ ১: অনলাইনে আবেদন

প্রথমে ভারতের অফিসিয়াল ভিসা আবেদন পোর্টালে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

ধাপ ২: IVAC-এ কাগজপত্র জমা

অনলাইন আবেদন শেষ করার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নির্ধারিত IVAC কেন্দ্রে সব নথি জমা দিতে হবে।


অনলাইনে আবেদন করার সম্পূর্ণ নিয়ম

ধাপ ১

অফিসিয়াল ভারতীয় ভিসা আবেদন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

ধাপ ২

Regular Visa Application নির্বাচন করুন।

ধাপ ৩

Nationality হিসেবে Bangladesh নির্বাচন করুন।

ধাপ ৪

Visa Type হিসেবে Tourist Visa নির্বাচন করুন।

ধাপ ৫

আপনার নাম, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বর, পেশা, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল ঠিকানা সঠিকভাবে লিখুন।

ধাপ ৬

ভারতে কোথায় থাকবেন, কতদিন থাকবেন এবং কেন যাচ্ছেন—এসব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।

ধাপ ৭

সব তথ্য যাচাই করে আবেদন সাবমিট করুন।

ধাপ ৮

আবেদনপত্র PDF আকারে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করুন এবং স্বাক্ষর করুন। এই প্রিন্ট কপি IVAC-এ জমা দিতে হবে।


IVAC-এ অ্যাপয়েন্টমেন্ট কীভাবে বুক করবেন?

অনলাইন আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর একই ইমেইল ব্যবহার করে IVAC পোর্টালে নিবন্ধন করতে হবে।

এরপর—

সাধারণত পরবর্তী কর্মদিবসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট প্রতিদিন বিকেলে উন্মুক্ত করা হয়।


ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?

সাধারণভাবে নিম্নলিখিত নথিগুলো প্রয়োজন হয়—

আবেদনের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে।

ভারত ভ্রমণের জন্য ব্যাংকে কত টাকা থাকা উচিত?

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ন্যূনতম ব্যাংক ব্যালেন্স সরকারিভাবে নির্ধারণ করা নেই। তবে আবেদনকারীকে এমন আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হবে যাতে বোঝা যায় তিনি নিজের ভ্রমণ, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য খরচ বহন করতে পারবেন। সাধারণত গত ৩ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা অন্যান্য আর্থিক প্রমাণপত্র জমা দিতে বলা হয়।

ভালো আবেদন তৈরির জন্য কিছু পরামর্শ:


কত মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট লাগবে?

সাধারণত গত ৩ মাসের আপডেটেড ব্যাংক স্টেটমেন্ট গ্রহণযোগ্য। কিছু ক্ষেত্রে দূতাবাস অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে।


ভিসা করতে মোট কত টাকা লাগবে?

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত সরকারের ট্যুরিস্ট ভিসা ফি নেই (Gratis)। তবে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য IVAC সার্ভিস/প্রসেসিং ফি দিতে হয়। বর্তমান ফি সম্পর্কে আবেদন করার আগে IVAC-এর অফিসিয়াল নোটিশ দেখে নেওয়া উচিত, কারণ সময়ে সময়ে এটি পরিবর্তিত হতে পারে।

আপনার সম্ভাব্য খরচ হতে পারে—


ভিসা পেতে কতদিন সময় লাগে?

ভারতের অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ ক্ষেত্রে আবেদন জমা দেওয়ার পর কমপক্ষে ৩ কর্মদিবস সময় লাগতে পারে। তবে অতিরিক্ত যাচাই, সরকারি ছুটি বা বিশেষ পরিস্থিতিতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ভ্রমণের অন্তত ২–৩ সপ্তাহ আগে আবেদন করা নিরাপদ।


কোন কোন কারণে ভারতীয় ভিসা বাতিল হতে পারে?

অনেক আবেদনকারী ছোটখাটো ভুলের কারণে ভিসা পান না। নিচে সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো দেওয়া হলো—

  1. আবেদনপত্রে ভুল তথ্য।

  2. পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাসের কম।

  3. অসম্পূর্ণ কাগজপত্র।

  4. ব্যাংক স্টেটমেন্টে অসামঞ্জস্য।

  5. আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দুর্বল।

  6. ভ্রমণের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়।

  7. ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়া।

  8. ছবি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী না হওয়া।

  9. পূর্বের ভিসা নিয়ম ভঙ্গের ইতিহাস।

  10. পাসপোর্টে নাম ও অন্যান্য নথির তথ্য না মিললে।


ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ানোর ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস


আবেদন করার আগে একটি চেকলিস্ট

✔ বৈধ পাসপোর্ট
✔ অনলাইন আবেদনপত্র
✔ পাসপোর্ট সাইজ ছবি
✔ জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
✔ ৩ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
✔ পেশাগত প্রমাণপত্র
✔ IVAC অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিতকরণ
✔ প্রয়োজনীয় ফটোকপি


গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ই-ভিসা (e-Visa) প্রযোজ্য নয়। তাই ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য নিয়মিত অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করে IVAC-এর মাধ্যমে কাগজপত্র জমা দিতে হবে। শুধুমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং অনুমোদিত IVAC ব্যবহার করুন।

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদ (Validity)

ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদ (Validity) আবেদনকারীর প্রোফাইল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং ভিসা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তাই সব আবেদনকারী একই মেয়াদের ভিসা পান না। ভিসা স্টিকারে উল্লেখিত Validity, Number of Entries এবং Duration of Stay ভালোভাবে পড়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


Single Entry ও Multiple Entry ভিসা কী?

Single Entry Visa

এই ভিসায় সাধারণত একবার ভারতে প্রবেশ করা যায়। ভারত থেকে বেরিয়ে গেলে একই ভিসা ব্যবহার করে আবার প্রবেশ করা যায় না।

Multiple Entry Visa

এই ধরনের ভিসায় ভিসার শর্ত অনুযায়ী একাধিকবার ভারতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে ভিসা স্টিকারে উল্লেখিত শর্তের ওপর নির্ভর করে।


কোন কোন পথ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করা যায়?

ভিসায় অনুমোদিত Entry Point অনুযায়ী আপনি বিভিন্ন পথে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন।

✈ বিমানপথ

🚆 রেলপথ

🚌 সড়কপথ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের অনুমোদিত স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করা যায়। কোন বন্দর দিয়ে প্রবেশ করা যাবে, তা আপনার ভিসায় উল্লেখ থাকতে পারে। ভ্রমণের আগে সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করে নিন।


ভারতে পৌঁছানোর পর কী করতে হবে?

ভারতে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন কাউন্টারে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো যাচাই করা হতে পারে—

সব প্রশ্নের উত্তর শান্তভাবে এবং সত্য তথ্যের ভিত্তিতে দিন।


ভারতে যাওয়ার সময় কী কী সঙ্গে রাখা উচিত?

ভ্রমণের সময় নিচের কাগজপত্র আলাদা ফাইলে রাখুন—


কী কী জিনিস বহন করা থেকে বিরত থাকবেন?

ভারতে প্রবেশের সময় আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ পণ্য বহন করবেন না। যেমন—

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে আপনার লাগেজ পরীক্ষা করতে পারে।


ভারতে অবস্থানের সময় যে নিয়মগুলো মানবেন


ভিসার মেয়াদ শেষ হলে কী হবে?

ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ভারতে অবস্থান করলে তা ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের মধ্যে পড়তে পারে। এর ফলে জরিমানা, ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার জটিলতা বা অন্যান্য আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে পারেন। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশ ত্যাগ করা উচিত।


গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

ভারত বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু করার পাশাপাশি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে IVAC-এ স্বয়ংক্রিয় (Automatic) অ্যাপয়েন্টমেন্ট টাইম-স্লট ব্যবস্থা চালু করেছে। এখন আবেদনকারীদের নিজে থেকে সময় নির্বাচন করতে হবে না; সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত সময় বরাদ্দ করবে।


ভ্রমণের আগে শেষবারের মতো যা যাচাই করবেন


ছোট একটি পরামর্শ

দালালের ওপর নির্ভর না করে নিজেই আবেদন করার চেষ্টা করুন। অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুসরণ করলে অধিকাংশ আবেদনকারী সহজেই সঠিকভাবে আবেদন সম্পন্ন করতে পারেন। আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম ও নোটিশ অবশ্যই যাচাই করুন, কারণ ভিসা নীতিমালা সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।

 

ভারতে ভ্রমণের সম্ভাব্য বাজেট

ভারতে ভ্রমণের মোট খরচ নির্ভর করবে আপনি কোথায় যাবেন, কতদিন থাকবেন এবং কী ধরনের হোটেল ও যাতায়াত বেছে নেবেন তার ওপর।

কলকাতা (৩–৫ দিন)

দার্জিলিং (৫–৭ দিন)

দিল্লি ও আগ্রা

পরামর্শ: ভ্রমণের আগে একটি লিখিত বাজেট তৈরি করুন এবং জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত অর্থ সংরক্ষণ করুন।


ভারত ভ্রমণের আগে করণীয়

ভ্রমণের অন্তত এক সপ্তাহ আগে নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করুন—


ভারত ভ্রমণের সময় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

সম্পূর্ণ সংস্করণ দেখুন